5:07 am, Saturday, 18 July 2026

শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করে মুহতামিম

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৬:১০ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ২৮ আগস্ট ২০২১
  • 38110 Time View

বার্তা ডেস্কঃ একবুক আশা নিয়ে ছেলেকে কুরআনে হাফেজ বানানোর জন্য মাদ্রাসায় দেন প্রবাসী বাবা। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই হায়েনার হিংস্র থাবায় সে আদরের মানিককে কাফনে জড়িয়ে চিরবিদায় দিতে হবে সে কথা কে জানতো।

এ শোক, এ বেদনা এমন হাহাকার সইবার শক্তি ক’জন মা-বাবার থাকে। অবশেষে বেরিয়ে এলো মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক হত্যাকান্ডের মূল রহস্য।  হিফজ মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত হোসেন (৯)-কে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মুহতামিম মোশারফ হোসেন (৪২)। ৪ দিনের রিমান্ড শেষে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার ফেনীর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন ঘাতক।

মুহতামিম আদালতকে জানান, শনিবার (২১ অগাস্ট) রাতে দ্বিতীয়বার জোরপূর্বক বলাৎকার করার পর আরাফাত বিষয়টি তার বাবাকে বলে দেয়ার হুমকি দেয়। এতে মান ইজ্জতের ভয়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঘাতক মোশারফ হোসেন উপজেলার চরমজলিশপুর ইউনিয়নের চরলক্ষীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক (র.) নুরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম ছিলেন।

তার বাড়ী ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়। নিহত আরাফাত একই মাদরাসা ও এতিমখানার ছাত্র এবং চরমজলিশপুর ইউনিয়নের ছয়আনি গ্রামের নাজের কোম্পানী বাড়ির ফানা উল্লাহর ছেলে।

প্রসঙ্গত; রবিবার (২২ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে সোনাগাজী চরলক্ষীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক (র.) নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার হেফজ বিভাগের ছাত্র আরাফাত হোসেন কে হত্যা করে মাদ্রাসা সংলগ্ন দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউপির মোমারিজপুর গ্রামের একটি ডোবায় লাশ ফেলে দেয়।

একই দিন সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় আরাফাতের পিতা বাদী হয়ে এ ঘটনায় মুহতামিমসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। ওই দিন রাতেই মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে মুহতামিম মোশারফ হোসেন ও আরাফাতের এক সহপাঠিসহ এজহার নামীয় আরো দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সোমবার (২৩ আগস্ট) গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মুহতামিম মোশারফ হোসেন কে ৪দিনের, সহকারী শিক্ষক আজিম উদ্দিন ও নুর আলীকে ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই সাথে গ্রেপ্তারকৃত জোবায়ের আলম ফাইজ (১১)কে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণের আদেশ দেওয়া হয়।
দাগনভূঞা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন , ৪দিনের রিমোন্ড শেষে মুহতামিমকে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবনন্দি প্রদান করেন।

এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জুয়েল বলেন, মুহতামিমের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। তার স্বীকারোক্তিতে দেয়া তথ্য অসংলগ্ন মনে হলে পূণরায় রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

Spread the love
Tag :

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শাহাদাত হোসাইন

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করে মুহতামিম

Update Time : ১২:০৬:১০ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ২৮ আগস্ট ২০২১

বার্তা ডেস্কঃ একবুক আশা নিয়ে ছেলেকে কুরআনে হাফেজ বানানোর জন্য মাদ্রাসায় দেন প্রবাসী বাবা। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই হায়েনার হিংস্র থাবায় সে আদরের মানিককে কাফনে জড়িয়ে চিরবিদায় দিতে হবে সে কথা কে জানতো।

এ শোক, এ বেদনা এমন হাহাকার সইবার শক্তি ক’জন মা-বাবার থাকে। অবশেষে বেরিয়ে এলো মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক হত্যাকান্ডের মূল রহস্য।  হিফজ মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত হোসেন (৯)-কে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মুহতামিম মোশারফ হোসেন (৪২)। ৪ দিনের রিমান্ড শেষে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার ফেনীর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন ঘাতক।

মুহতামিম আদালতকে জানান, শনিবার (২১ অগাস্ট) রাতে দ্বিতীয়বার জোরপূর্বক বলাৎকার করার পর আরাফাত বিষয়টি তার বাবাকে বলে দেয়ার হুমকি দেয়। এতে মান ইজ্জতের ভয়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঘাতক মোশারফ হোসেন উপজেলার চরমজলিশপুর ইউনিয়নের চরলক্ষীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক (র.) নুরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম ছিলেন।

তার বাড়ী ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়। নিহত আরাফাত একই মাদরাসা ও এতিমখানার ছাত্র এবং চরমজলিশপুর ইউনিয়নের ছয়আনি গ্রামের নাজের কোম্পানী বাড়ির ফানা উল্লাহর ছেলে।

প্রসঙ্গত; রবিবার (২২ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে সোনাগাজী চরলক্ষীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক (র.) নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার হেফজ বিভাগের ছাত্র আরাফাত হোসেন কে হত্যা করে মাদ্রাসা সংলগ্ন দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউপির মোমারিজপুর গ্রামের একটি ডোবায় লাশ ফেলে দেয়।

একই দিন সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় আরাফাতের পিতা বাদী হয়ে এ ঘটনায় মুহতামিমসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। ওই দিন রাতেই মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে মুহতামিম মোশারফ হোসেন ও আরাফাতের এক সহপাঠিসহ এজহার নামীয় আরো দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সোমবার (২৩ আগস্ট) গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মুহতামিম মোশারফ হোসেন কে ৪দিনের, সহকারী শিক্ষক আজিম উদ্দিন ও নুর আলীকে ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই সাথে গ্রেপ্তারকৃত জোবায়ের আলম ফাইজ (১১)কে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণের আদেশ দেওয়া হয়।
দাগনভূঞা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন , ৪দিনের রিমোন্ড শেষে মুহতামিমকে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবনন্দি প্রদান করেন।

এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জুয়েল বলেন, মুহতামিমের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। তার স্বীকারোক্তিতে দেয়া তথ্য অসংলগ্ন মনে হলে পূণরায় রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

Spread the love