নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেনীতে নেতাকর্মীদের তাহাজ্জুদ পড়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে বললেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যাদের তাহাজ্জুদ পড়ার অভ্যাস আছে তারা পড়বেন। যারা পড়েন না সেদিন তারাও পড়বেন। ভোট কেন্দ্রের পাশে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়বেন। ৭টার সময় গিয়ে ভোটারের লাইনে দাঁড়াবেন। ভোট দেওয়া শেষে একদম হিসাব-নিকাশ শেষ করে তারপর বাড়ি ফিরবেন। এ দেশের জনগণের সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।
রবিবার সন্ধ্যায় ফেনী পাইলট হাইস্কুল মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি আরও বলেন, আমাদের বিরোধীরা আমাদের সম্পর্কে অনেক কথা বলছে। আমরাও বলতে পারতাম। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবে না। ফেনীতে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়ন করতে হলে খাল খনন করতে হবে।
ফেনী-১ আসনের প্রার্থী রফিকুল আলম মজনুর দাবির প্রেক্ষিতে তিনি ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। চট্টগ্রামের মতো ফেনীর মানুষের উন্নয়নে তিনি ফেনীতেও একটি ইপিজেড করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি বলেন, আসুন আমরা ১২ তারিখে আবারও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করি। জনগণের অংশগ্রহণে গণতন্ত্রের বুনিয়াদ যত শক্তিশালী হবে, তত মানুষের ভাগ্যের উন্নতি হবে। তিনি বলেন, করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জয়যুক্ত হলে এই এলাকার উন্নয়ন শুরু হবে। দেশকে গড়তে হবে। দেশ গড়তে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিগত ১৫ বছর যাবৎ ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল জোর করে। যখনই গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে, তখনই একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। যাতে কেউ ভোট ও কথা বলার অধিকার আবার কেড়ে নিতে না পারে।
ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের মানুষের যেমন দাবি আছে বিএনপির কাছে, তেমনি বিএনপিরও দাবি আছে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে। বিএনপি মনে করে জনগণই হচ্ছে সকল ক্ষমতার রাজনৈতিক উৎস। তিনি বলেন, আমি দেশের মানুষের জন্য কিছু পরিকল্পনা করেছি। গ্রাম ও শহরের খেটে খাওয়া পরিবারের নারীদের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। যে কার্ডের মাধ্যমে নারীদের সহযোগিতা করা হবে। আরও একটি পরিকল্পনা আছে, কৃষকদের একটি করে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। যে কার্ডের মাধ্যমে সার, কীটনাশক, ওষুধ ও বীজ কৃষকদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে।
গ্রামের মানুষ বিশেষ করে নারী ও মহিলারা যাতে বিশেষ সুবিধা পায়। তাই পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হবে।তারেক রহমান বলেন, তরুণদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠাতে হবে। ট্রেনিং ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে বিদেশে পাঠালে যুবকরা আরও ভালো বেতনে চাকরি করতে পারবে। এ পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। গত ১৫ বছর মানুষের অধিকারকে দাবিয়ে রাখা হয়েছে।
ছাত্রজনতার প্রতিবাদের মুখে ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। সভা চলাকালে তিনি ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের ১৩ এমপি প্রার্থীকে উপস্থিত জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নাল আবেদীন ফারুক ও অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের এমপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাছির উদ্দিন নাছির প্রমুখ। এছাড়াও সমাবেশে ফেনী জেলা বিএনপি, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


