7:14 pm, Saturday, 1 August 2026

ফুলগাজীতে মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৫ গ্রাম প্লাবিত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০৩:৩৯ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫
  • 12 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে  ফুলগাজীতে মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধে ২ স্থানে ভাঙ্গনের ফলে অন্তত ৫টি প্লাবিত হয়েছে।

উপজেলার উত্তর বরইয়া এবং বণিকপাড়া মুহুরী নদীর দুটি স্থানে বাঁধে ভাঙ্গন ধরেছে। এতে মুহূর্তেই পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাত ১টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বণিকপাড়া সহদেব বৈদ্যের বাড়ি-সংলগ্ন মুহুরী নদীর বাঁধের একটি স্থানে ও গোসাইপুর এলাকায় সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে রান্নাবান্না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দক্ষিণ বরইয়া, বিজয়পুর, বসন্তপুর, ফতেহপুর, বখশিপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফুলগাজী বাজারে পানি ওঠায় সেখানে দোকানপাটের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরশুরাম উপজেলায়ও নদীর পাড় দিয়ে পানি ঢুকে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁধে ভাঙনের ফলে উত্তর বরইয়া, দক্ষিণ বরইয়া, বণিকপাড়া, বসন্তপুর ও জগতপুর এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ ছাড়া, এদিন সন্ধ্যা থেকে ফুলগাজী তরকারি বাজার-সংলগ্ন স্থানে মুহুরী নদীর পানি প্রবেশ করে বাজারের একটি অংশ প্লাবিত হয়েছে।
একই দিন দুপুর থেকে পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মনিপুর এলাকায় সিলোনিয়া নদীর পানি বেড়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।
মোর্শেদ নামে বরইয়া এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে অনেক চেষ্টা করেও ভাঙন ঠেকানো যায়নি।’
তিনি অভিযোগ করেন,‘গেল বছরের বন্যার এক বছর না পেরোতে আবারও আমরা পানিতে ডুবছি। কিছু কর্মকর্তার দায়সারা কাজের কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলে এ ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।’
এ বিষয়ে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন মজুমদার জানান, মুহুরী নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বাধেঁর বেশ কয়েকটি স্থান এখনও ঝুঁকিতে রয়েছে। একটি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গেছে।
এদিকে, ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

Spread the love
Tag :

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শাহাদাত হোসাইন

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ফুলগাজীতে মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৫ গ্রাম প্লাবিত

Update Time : ০৭:০৩:৩৯ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে  ফুলগাজীতে মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধে ২ স্থানে ভাঙ্গনের ফলে অন্তত ৫টি প্লাবিত হয়েছে।

উপজেলার উত্তর বরইয়া এবং বণিকপাড়া মুহুরী নদীর দুটি স্থানে বাঁধে ভাঙ্গন ধরেছে। এতে মুহূর্তেই পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাত ১টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বণিকপাড়া সহদেব বৈদ্যের বাড়ি-সংলগ্ন মুহুরী নদীর বাঁধের একটি স্থানে ও গোসাইপুর এলাকায় সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে রান্নাবান্না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দক্ষিণ বরইয়া, বিজয়পুর, বসন্তপুর, ফতেহপুর, বখশিপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফুলগাজী বাজারে পানি ওঠায় সেখানে দোকানপাটের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরশুরাম উপজেলায়ও নদীর পাড় দিয়ে পানি ঢুকে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁধে ভাঙনের ফলে উত্তর বরইয়া, দক্ষিণ বরইয়া, বণিকপাড়া, বসন্তপুর ও জগতপুর এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ ছাড়া, এদিন সন্ধ্যা থেকে ফুলগাজী তরকারি বাজার-সংলগ্ন স্থানে মুহুরী নদীর পানি প্রবেশ করে বাজারের একটি অংশ প্লাবিত হয়েছে।
একই দিন দুপুর থেকে পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মনিপুর এলাকায় সিলোনিয়া নদীর পানি বেড়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।
মোর্শেদ নামে বরইয়া এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে অনেক চেষ্টা করেও ভাঙন ঠেকানো যায়নি।’
তিনি অভিযোগ করেন,‘গেল বছরের বন্যার এক বছর না পেরোতে আবারও আমরা পানিতে ডুবছি। কিছু কর্মকর্তার দায়সারা কাজের কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলে এ ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।’
এ বিষয়ে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন মজুমদার জানান, মুহুরী নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বাধেঁর বেশ কয়েকটি স্থান এখনও ঝুঁকিতে রয়েছে। একটি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গেছে।
এদিকে, ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

Spread the love